in ,

জলবায়ুর নিয়ামক কাকে বলে? জলবায়ুর নিয়ামকগুলো কি কি?

জলবায়ুর নিয়ামক কাকে বলে? জলবায়ুর নিয়ামকগুলো কি কি?
জলবায়ুর নিয়ামক কাকে বলে? জলবায়ুর নিয়ামকগুলো কি কি?

জলবায়ুর নিয়ামক কাকে বলে?

জলবায়ুর নিয়ামক ( factors of climate): পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু এক রকম নয়। পৃথিবীর কোন অঞ্চল উষ্ণ এবং কোন অঞ্চল শীতল। আবার কোন স্থান বৃষ্টিবহুল এবং কোন স্থান বৃষ্টিহীন। কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

জলবায়ুর নিয়ামকগুলো কি কি?

জলবায়ুর বিভিন্ন নিয়ামক এর বিবরণ ও জলবায়ুর উপাদানের উপর তাদের প্রভাব বর্ণনা করা হলো।

১. অক্ষাংশ ( Latitude): সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশ ভেদে বিভিন্ন রকম হয়। নিরক্ষরেখার উপর সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। আর নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে দেওয়া যায় সূর্যকিরণ ততই তীর্যকভাবে পড়তে থাকে। এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে।

২. উচ্চতা (Altitude): সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু সম্পন্ন হয়। যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম। উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলংয়ে দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব (distance from the sea): জলভাগ এর অবস্থান কোন এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার  জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় বেশ মৃদুভাবাপন্ন। সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার তাপমাত্রায় শীত বা গ্রীস্মে তেমন পার্থক্য হয় না। এই ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। কিন্তু সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত-গ্রীস্ম উভয় চরম হয়। কারণ স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয় আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়। এইজন্য গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগের এলাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়। এই ধরনের জলবায়ুকে মহাদেশীয় পাত চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

৪. বায়ুপ্রবাহ (wind movement): বায়ু প্রবাহ কোন এলাকার জলবায়ুর উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোন এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। যেমন বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

৫. সমুদ্রস্রোত (ocean currents): শীতল বা উষ্ণ সমুদ্র স্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়। যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকায় উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। আবার শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে।

৬. পর্বতের অবস্থান(location of the mountains): উচ্চ পার্বত্যময় এলাকা বায়ুপ্রবাহের পথে বাঁধা হলে এর প্রভাব জলবায়ুর উপর পরিলক্ষিত হয়। যেমন মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উত্তরে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত হিমালয় পর্বতের বাধা পাওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। অপরদিকে শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু হিমালয় অতিক্রম করতে পারে না। তাই ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মত তত শীতল হয় না।

৭. ভূমির ঢাল (slope of the land): সূর্যকিরণ উঁচুভূমির ঢাল বরাবর লম্বভাবে পতিত হলে সেখানকার বায়ু এবং ভূমি বেশি উত্তপ্ত হয়। কিন্তু ঢালের বিপরীত দিকে সূর্যকিরণ কিছুটা তীর্যকভাবে পড়ে বা কখনো সূর্যালোক খুব কম পায় ফলে বায়ু শীতল হয়।

৮. মৃত্তিকার গঠন( composition of the soil): মৃত্তিকার গঠন বা বুনট সূর্যতাপ সংরক্ষণের বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রস্তর বা বালুকাময় মৃত্তিকা তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। এইজন্য তা দ্রুত উত্তপ্ত এবং দ্রুত শীতল হয়। যেমন- মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা।

৯. বনভূমির অবস্থান (location of the forest): গাছপালা থেকে প্রস্বেদন (Transpiration) ও বাষ্পীভবনের  (Evaporation) সাহায্যে বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ এবং ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাছাড়া বনভূমি ঝড়-তুফান, সাইক্লোনের গতি পথে বাধা দিয়ে এর শক্তি কমিয়ে দেয়। বনভূমিতে সূর্যালোক মাটিতে পৌঁছতে পারে না, ফলে সেখানকার বায়ু তুলনামূলকভাবে শীতল হয়।

জলবায়ুর নিয়ামকগুলো একটি স্থানের জলবায়ু কেমন হবে তা নির্ধারণ করে। জলবায়ুর নিয়ামকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানলে কোন স্থানের জলবায়ু কেমন হবে সেটি সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

আরও পড়ুন- গ্রীন হাউজ কি? গ্রিন হাউজ ইফেক্ট কি? গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণ

আরও পড়ুন- মানব বসতি কাকে বলে? বসতির শ্রেণী বিভাগ। বসতি স্থাপনের নিয়ামকগুলো কি কি?